From
Subject
Time (UTC)
notification+kjdkudj_ivwi@facebookmail.com
[রঙধনু সাহিত্যগ্রুপ] কবিকবি-ভাব ছন্দের অভাব-৪
2015-06-28 14:27:21
To: রঙধনু সাহিত্যগ্রুপ
From: notification+kjdkudj_ivwi@facebookmail.com
Subject:

[রঙধনু সাহিত্যগ্রুপ] কবিকবি-ভাব ছন্দের অভাব-৪


Received: 2015-06-28 14:27:21
        শাহ আলম বাদশা June 28 at 7:27am   কবিকবি-ভাব ছন্দের অভাব-৪ শাহ আলম বাদশা ।।পাঁচ।। ছন্দহীন মুক্তকছন্দ বনাম কবিতাহীন গদ্যকবিতাঃ মুক্তছন্দ সম্পর্কে আলোচনা এ পর্বেই শেষ করবো এবং মুলছন্দ নিয়েই আমরা সামনে এগোবো। আমরা পদ্যের নাম শুনেছি, পাঠ্যবইয়ে দেখেছি পদ্যাংশ আর গদ্যাংশের বিভাজন। কবিতা-ছড়া ইত্যাদি যে অধ্যায়ে থাকে তাকেই জেনেছি পদ্যাংশ বলে, তাইতো? অনেকের মনে প্রশ্ন জাগতেই পারে যে, কবিতা আর পদ্যের মাঝে আসলে ফারাক আছে কিনা বা ফারাক থাকলে তা কী? সেটাও আমার আলোচনায় আসবে। তবে মুক্তকছন্দ নামটির পাশাপাশি গদ্যকবিতার নামও আমরা শুনে থাকি। গদ্য আর পদ্য'র মাঝখানে গদ্যকবিতা আবার কী জিনিস এবং গদ্যের আবার কবিতা হয় নাকি-অনেকেরই মনে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক? জ্বি হয়, তবে তাও রীতমত মুক্তকছন্দের ছন্দোবদ্ধ কবিতা এবং কবিতার সবগুণই থাকে ওতে শুধু অন্ত্যমিলটা ব্যতিরেকে। যদিও এই গদ্যকবিতার নামের আড়ালে পত্রিকার কলামের মতোন কিছুলাইন সাজিয়ে ছন্দহীনভাবে যা লেখা হয়, তা আদৌ গদ্যকবিতা পদবাচ্য নয়? আগেই লিখেছি-কবিতার মতো কঠিন ব্যাকরণসম্মত শিল্পতৈরি করা এতোই সহজ হলেতো সবাই লিখতে পারে কবিতা-ছড়া-গান! আর যদি এত সহজই হয়, অনেকের মতে, তাহলে নিজেদের আবেগতাড়িত চিঠি, প্রেমপত্র, বাজারের লিস্টসমূহও আধুনিক কবিতা বৈতো নয় ? অনেকেই হয়তো ভাববেন, তাহলেতো কবি হওয়া খুবই সহজ! এখানেই আমার মতো অনেকেরই আপত্তি যে, মুক্তকছন্দে যেমন ছন্দশব্দটা আষ্টেপৃষ্ঠে লাগানোই আছে, গদ্যকবিতায় যেমন কবিতাশব্দটা যুক্ত আছে, তা থেকেই বুঝতে কি বাকি থাকে যে, ছন্দ আর কবিতা-ছড়া-গান পরস্পর ওতপ্রোতভাবেই জড়িত। অর্থাৎ ছন্দই কবিতার প্রাণ আর কবিতা-ছড়া-গান মানেই ছন্দের খেলা? ছন্দছাড়া নিছক গদ্যই রচিত হতে পারে কিন্তু পদ্য-কবিতা-ছড়া-গান আদৌ নয়। তাই অনেকেই বিরক্তিকর ছন্দহীন কবিতা দেখলেই বলেন-কবিকবিভাব, ছন্দের অভাব! আর আমি বলি-ছন্দহীন মুক্তকছন্দ এবং কবিতাহীন গদ্যকবিতা। ছন্দোবদ্ধ গদ্যকবিতার উদাহরণঃ মুক্তকছন্দে লেখা এবং গদ্যকবিতাকে নিয়েই লেখা আমার ক'টি কবিতা পড়ুন এবার।পড়তে গিয়ে গদ্যের মতো বা গল্প-প্রবন্ধের মতো লাগে কিনা দেখুন। গদ্যকবিতাও যে আবৃত্তিযোগ্য, ছন্দ থাকলেই তা বোঝা যায়। ১ নিপুণ শব্দস্রোত কবিতা-সুন্দরীর ছন্দিত ভুবনে আমি খুঁজি তার নন্দিত শরীর। বিপুল শব্দস্রোতে ভাসিয়ে হৃদয়কন্দর... সাঁতারকেটে চলি দ্রুতগামী মাছের মতোন! কবিতাপাগল অন্ধ আমি ছন্দে ছন্দে খুঁজি তার অনিন্দ্য-সুন্দর অভিসারী যৌবন? বন্ধুরা বলে, গদ্যের যুগে ছন্দের কী দাম রূপক কবিতা্ও আজ কবিতা নয়; স্রেফ পত্রিকার কলামের মতোই কলাম সাজিয়ে দাও গেঁথে দুর্বোধ্য কিছু শব্দসম্ভার! অনবদ্য যৌবনা-কবিতার অনিটোল রূপ মাড়িয়ে তাই আমি তুলে আনি ছন্দ-সুর ছন্দিত কবিতা কি তবে কবিতা নয়, অথচ কী সুন্দর; অসুন্দর মানেই তো জানি ছন্দপতন খুব নারীসুষমাও কবিতার অশরীরী কায়ার মতোন– বন্ধুরা বলে, সবার জন্য কবিতা নয় তাই মুড়িয়ে দাও কবিতায় এক দুর্লঙ্ঘ আবরণ। হায় কবিতা, তুমি কি তবে অবগুণ্ঠিত নারী বুঝিনা আমি, নিপুণ শব্দস্রোতেই শুধু সাঁতরাই!! ২ দুর্বোধ্য মোনালিসা-হাসি শাহ আলম বাদশা বড্ড ভালোবাসি তোমায়, ভালোবাসি সুন্দরী আমায় পাগল করে তোমার নিটোল দেহবল্লরী মৃদুমন্দ তোমার ছন্দ নাচায়, হাসায়-কাঁদায় তোমায় ছুঁলেই শিহরিত হই, জাগাও কাঁপন প্রেমাসক্ত হৃদয়কন্দরে শুধুই আমার। তোমার সর্পিল গতি কী লোভনীয় অতি হৃদয় অলিন্দে রেখেছি একান্তে তোমায় তোমার উপমা তুমিই, কী সুশ্রী দেহ-বল্লভ তোমার দেহের গন্ধে গন্ধে আমি যে মাতাল শুধুই করতে পারিনে দুর্বোধ্য মোনালিসা-হাসি আর তীর্যক চাহনীর কোনো মর্মোদ্ধার! তুমি কঠিন, খুলে দাওনা তোমার দেহের ভূভাগ করি সুধাপান, খুঁজি অবারিত সুখ, সহজপাঠ তোমার ছন্দে আরো ছন্দিত হই, দোলায় দুলি আরো নমনীয় হও ওগো কবিতাসুন্দরী নত হই আমিও আরো পাদপদ্মে তোমার। কবিতা-অকবিতাঃ ছন্দহীন পদ্য-কবিতা-ছড়া ও গান! ছন্দ, মাত্রা, তাল- লয়,উপমা-উৎপ্রেক্ষা ইত্যাদি না থাকলে কিসের কবিতা? মুক্তছন্দের নামে অন্ত্যমিলবর্জিত কবিতাও যে ছন্দহীন কবিতা নয়–তা-ও বোঝেনা আজকালকার অনেক তথাকথিত গদ্যকবি।আসলে আবৃত্তির অযোগ্য কবিতা কখনোই ভালোকবিতা হতে পারেনা। আবার ভালোকবি মানেই ভালো গীতিকার- এটাও সত্য। এখানে আরেকটি কথা বলে রাখি, যারা যতবেশি ছন্দে পণ্ডিত, তারা ততবেশি ভালো ছড়াকার। আর পারদর্শী ছড়াকাররাই মূলতঃ মানোত্তীর্ণ ছড়া-কবিতা ও গানলেখায় পটু হয়ে থাকে। প্রকৃত মানোত্তীর্ণ কবিতার আবৃত্তিও সাবলীল ও হৃদয়গ্রাহী হতে বাধ্য; আবার ছন্দহীন অকবিতার আবৃত্তি সুন্দর হতেই পারেনা। জোর করে তা আবৃত্তির চেষ্টা যতই করা হোকনা কেনো? ''ছন্দবিহীন কবিতা অনেক আগেও ছিল''-একজন পাঠকের এমন মন্তব্যশুনে আমারতো আক্কেলগুড়ুম! আসলে ছন্দ কী, আগে আমাদের তা বুঝতে হবে, কবিতা-পদ্য লিখতেই চাই? তার কথায় মনে হলো–ছন্দসম্পর্কে তার সঠিক ধারণাই নেই। ছন্দছাড়া কবিতা-ছড়া-গান হয়না, হতেই পারেনা; এটা অনেকেই বুঝতে চাননা। অনেকেই দেখেছি, অন্ত্যমিলকেই ছন্দ বলেন। কিন্তু কবি মধুসুদন দত্ত বলেছেন–শব্দে শব্দে বিয়ে (অন্ত্যমিল) হলেই কবিতা হয়না। শুধু অন্ত্যমিল থাকলে তাকে বড়জোর পদ্য বলা যেতে পারে। কবিতার ভাষা বা শব্দ ও বাক্য হতে হয় সহজ-সাবলীল। তবে কবিতায় কঠিন শব্দ থাকতেই পারে। কিন্তু তা হতে হয় ছান্দিক বা ঝংকৃত বা রিদমিক অথবা শ্রুতিমধুর শব্দ, যা কবিতার ছন্দসৃষ্টিতে সহায়ক হয়। যেমন- আধুনিক শব্দটা খুব শ্রুতিমধুর না হলেও এটি অন্ত্যমিলযুক্ত বা অন্ত্যমিবিহীন উভয় কবিতায় ব্যবহৃত হতে পারে। কিন্তু আমার মতে, আধুনিকতা শব্দটা আদৌ কবিতার জন্য উপযুক্ত ন্‌য়। এ জাতীয় চটুলতাবিহীন এবং উচচারণকটু কাঠখোট্টা শব্দকে কবিতা-ছড়া বা গানে অবশ্যই পরিহার করা দরকার। এজাতীয় শব্দ গদ্যের জন্য উপযুক্তমাত্র। নজরুল বা রবীঠাকুরসহ নামীদামী কবিদের কোনো ছন্দহীন কবিতা তো ছিলোনা। তবে গদ্যকবিতা বা মুক্তকছন্দের কবিতা তাদের আছে। তা আবার অতীব ছন্দোবদ্ধতো বটেই, যা মাদের মতো বিরক্তিকর গদ্যকবিতা নয়। আসলে ছন্দ জিনিসটা অন্তরে উপলদ্ধির এবং বিশেষত কানের শ্রুতির বিষয়, কবিতা-পদ্য পরতে গেলেই যে কানের আদৌ দেখার জিনিস নয়। ছন্দের সাথে ভাষার ব্যাকরণেরও কোনো যোগ নেই। উপযুক্ত, সুন্দর ও সাবলীল ধ্বনি, শব্দ এবং বাক্যের সাথে মাত্রা, তাল, লয়, উৎপ্রেক্ষা, রূপকতা ইত্যাদি মিলিয়ে গঠিত হয় ছন্দ। আর পদ্য-কবিতা-ছড়া-গান আবৃত্তি করলেই কানে অনুরণিত হতে থাকে একপ্রকার রিদম বা সুর যা হৃদয়কে ভাল্লাগায় নাচাতে থাকে–এটাই মূলতঃ ছন্দ। আবার ছন্দের আছে সুনির্দিষ্ট ও সুগঠিত একটা ব্যাকরণ বা নিয়ম। একটা উদাহরণ দিলে ছন্দের ধারণা পরিষ্কার হবে-পিচঢালা মসৃণ রাস্তায় গাড়িচালাতে খুব আরামবোধ হয়, কোনো ঝাঁকুনি না থাকায় ঘুমও পায় যাত্রীর। এই যে আরামবোধ বা সুখানুভূতি-এটাই ছন্দ। এজন্যই গানের সুরের ছন্দে অনেকেরই ঘুম পায়। আবার এবড়োথেবড়ো, ভাঙ্গাচোরা বন্ধুরপথে গাড়িচালিয়ে কি আপনি সেই সুখানুভূতি বা ছন্দ পাবেন? আপনি চরমভাবে বিরক্তিবোধ করবেন। এমনকি গাড়িতে ঘুমালেও গাড়ির চলার ছন্দহীনতায় সে ঘুম ভেঙ্গে গেলে আপনি রেগে যাবেন অবশ্যই। ছন্দহীন কবিতাপাঠেও পাঠকের তেমন বিরক্তি আসবে এবং আসেই। আমরা ছন্দ না জেনেও অনেকেই কবিতা লিখতে গিয়ে অকবিতা লিখি, যা পাঠককে বিভ্রান্ত করে; কবিতাবিমুখ করে তোলে। এতে কবিতার দোষ নেই। দোষ হচ্ছে তথাকথিত কবির, যারা পত্রিকার কলামের আদলে স্রেফ কিছু বাক্যসাজিয়ে কবিতা লিখতে চায়। ফলে তা আর কবিতা হয়না যদিও দেখতে কবিতার মতো। অথবা বেশকিছু দুর্বোধ্য শব্দসম্ভারে ভারী করে তোলে কবিতার শরীর, যা পড়তে ও বুঝতে চাইলে ডাকতে ইচ্ছে করে অগত্যা স্বয়ং সেই কবিকেই। আবার পদ্য-ছড়া আর গানের ক্ষেত্রে কেউ কিন্তু ছন্দহীনতার প্রসঙ্গ কখনো কি আনেন? নাহ, সাক্ষর-নিরক্ষর সবাই যেনো জানেই যে, পদ্য-ছড়া ও গান বা সঙ্গীত ছন্দছাড়া হয়ই না। কিন্তু কবিতা শব্দটি এবং এর ইতিহাসের মধ্যেই ছন্দের বাধ্যবাধকতা এবং অপরিহার্যতা থাকলেও আমাদের পূর্বসূরি কিছু কবিই গদ্যছন্দ-গদ্যকবিতা বা মুক্তছন্দের আবিষ্কার করায় ঘটেছে এই বিভ্রাট। যদিও তারাও কখনোই বলেননি যে, গদ্যকবিতা হবে ছন্দহীন; তবুও আমাদের এই বিভ্রান্তির কারণে আজ কবিতার তেমন কোনো কদর নেই। অথচ একসময় আমরা দেখেছি হাটে-ঘাটে-বাজারে পয়ারছন্দে রচিত গেঁয়ো কবিদের কী হৃদয়গ্রাহী প্রেম বা লোমহর্ষক ঘটনার বর্ণনাসম্বলিত পদ্য? তারা তা ছাপিয়ে আবৃত্তি করেকরে বিক্রি করতো এবং তাদের ছন্দোবদ্ধ সেই পদ্যের হৃদয়গ্রাহী আবৃত্তিশুনে আমরাও কিনে নিয়ে পড়তাম। এটা খুব বেশিদিনের কথা নয়, অনেকেরই স্মরণ থাকার কথা। আর আজ সেই ছন্দের এবং কবিতার কী দুর্দিন! জানিনে কতদিন আর কবিতার ওপর চলবে এমন অন্যায়-অবিচার!! আবার বলি- ছন্দ স্রেফ অনুভবের বিষয় যা দেখা যায়না। তবে নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী "ছন্দ জানা ভালো কিন্তু এর দাসত্ব করা ভালো নয়" ছন্দের দাসত্ব না করার উপদেশের বিষয়টি নতুন কবিদের জন্য বিপজ্জনক বলেই আমি মনে করি। এটা ছান্দসিক কবিদের জন্যই অনুসরনীয় হওয়া উচিৎ,যারা ছন্দের পণ্ডিত এবং ছন্দের ভাঙ্গাগড়ায় সিদ্ধহস্ত। তিনি নতুন কবি বা সবার জন্যই গনহারে একথা বলেননি। আবার গদ্যকবিদের অনেকেরই বানানের দশা দেখে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে যাই। যারা শুদ্ধভাষা জানেনা, বাক্যগঠনে বেশ দুর্বল। এমনকি শুদ্ধবানানসম্পর্কেও উদাসীন, তারা কোন যুক্তিতে কবিতা লিখতে আসে-এটা আমার বোধগম্য হয়না। যারা বাংলাব্যাকরণে এবং সঠিক বাক্যগঠন বা বানানেও দুর্বল; ছন্দ না জেনে এদের অনেকেই আবার কবিতা লেখে। ছন্দ, মাত্রা, তাল-লয়,উপমা-উৎপ্রেক্ষা ইত্যাদি মিলে তৈরি হয় কবিতা-পদ্য-ছড়া-গান এর মনকাড়া ছন্দ। আর এটি হচ্ছে রীতিমতো একটি শিল্প । কবিতার ব্যাকরণ মেনে চললে যেমন ছন্দের সৃষ্টি হয় তেমন ভাষারও আছে একটি ব্যাকরণ, যা না মানলে কবিতা ও ভাষায় থাকেনা কোনো নিয়ম-নীতি ও শৃঙ্খলা এবং সৌন্দর্যবোধ-শ্রুতিমাধুর্যও। তাই ছন্দছাড়া কবিতা হয়না-এটা ১০০% সঠিক। এটা হয়তো গদ্যকবিদের অনেকেই জানেনা যে, বাংলাদেশে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরই মুক্তছন্দের প্রবক্তা হলেও তিনি কিন্তু গদ্যকবিতার নামে ছন্দহীন কবিতা নিজেই লেখেননি। এমনটি কেউ প্রমাণ করতে পারবেনা। তাই কবিতার মতো একটি কঠিন শিল্পের ছন্দ বা ব্যাকরণসম্পর্কে যারা উদাসীন থাকতে বলে–তারা ভালোকবি বা ভালোকবিতার ক্ষতি করছেন নিজেদের অজান্তেই। কারণ তাদের কথা মেনে হয়তো আজকাল অনেকেই কবিতার নামে স্রেফ পত্রিকার কলাম সাজাচ্ছেন মাত্র—। ধারছেন না কোনো ছন্দেরই ধার; ফলে কবিতার পাঠক কবিতা দেখলেই বা কবিতার নাম শুনলেই ভেগে যাচ্ছে কবিতায় কোনো ছন্দ ও আনন্দ না পেয়ে-এটাও দেখার বিষয়। [চলবে]       Like     Comment     Share    
   
 
   রঙধনু সাহিত্যগ্রুপ
 
   
   
 
 
   
শাহ আলম বাদশা
June 28 at 7:27am
 
কবিকবি-ভাব ছন্দের অভাব-৪
শাহ আলম বাদশা

।।পাঁচ।।
ছন্দহীন মুক্তকছন্দ বনাম কবিতাহীন গদ্যকবিতাঃ
মুক্তছন্দ সম্পর্কে আলোচনা এ পর্বেই শেষ করবো এবং মুলছন্দ নিয়েই আমরা সামনে এগোবো। আমরা পদ্যের নাম শুনেছি, পাঠ্যবইয়ে দেখেছি পদ্যাংশ আর গদ্যাংশের বিভাজন। কবিতা-ছড়া ইত্যাদি যে অধ্যায়ে থাকে তাকেই জেনেছি পদ্যাংশ বলে, তাইতো? অনেকের মনে প্রশ্ন জাগতেই পারে যে, কবিতা আর পদ্যের মাঝে আসলে ফারাক আছে কিনা বা ফারাক থাকলে তা কী? সেটাও আমার আলোচনায় আসবে।

তবে মুক্তকছন্দ নামটির পাশাপাশি গদ্যকবিতার নামও আমরা শুনে থাকি। গদ্য আর পদ্য'র মাঝখানে গদ্যকবিতা আবার কী জিনিস এবং গদ্যের আবার কবিতা হয় নাকি-অনেকেরই মনে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক? জ্বি হয়, তবে তাও রীতমত মুক্তকছন্দের ছন্দোবদ্ধ কবিতা এবং কবিতার সবগুণই থাকে ওতে শুধু অন্ত্যমিলটা ব্যতিরেকে। যদিও এই গদ্যকবিতার নামের আড়ালে পত্রিকার কলামের মতোন কিছুলাইন সাজিয়ে ছন্দহীনভাবে যা লেখা হয়, তা আদৌ গদ্যকবিতা পদবাচ্য নয়?

আগেই লিখেছি-কবিতার মতো কঠিন ব্যাকরণসম্মত শিল্পতৈরি করা এতোই সহজ হলেতো সবাই লিখতে পারে কবিতা-ছড়া-গান! আর যদি এত সহজই হয়, অনেকের মতে, তাহলে নিজেদের আবেগতাড়িত চিঠি, প্রেমপত্র, বাজারের লিস্টসমূহও আধুনিক কবিতা বৈতো নয় ? অনেকেই হয়তো ভাববেন, তাহলেতো কবি হওয়া খুবই সহজ! এখানেই আমার মতো অনেকেরই আপত্তি যে, মুক্তকছন্দে যেমন ছন্দশব্দটা আষ্টেপৃষ্ঠে লাগানোই আছে, গদ্যকবিতায় যেমন কবিতাশব্দটা যুক্ত আছে, তা থেকেই বুঝতে কি বাকি থাকে যে, ছন্দ আর কবিতা-ছড়া-গান পরস্পর ওতপ্রোতভাবেই জড়িত। অর্থাৎ ছন্দই কবিতার প্রাণ আর কবিতা-ছড়া-গান মানেই ছন্দের খেলা? ছন্দছাড়া নিছক গদ্যই রচিত হতে পারে কিন্তু পদ্য-কবিতা-ছড়া-গান আদৌ নয়। তাই অনেকেই বিরক্তিকর ছন্দহীন কবিতা দেখলেই বলেন-কবিকবিভাব, ছন্দের অভাব! আর আমি বলি-ছন্দহীন মুক্তকছন্দ এবং কবিতাহীন গদ্যকবিতা।

ছন্দোবদ্ধ গদ্যকবিতার উদাহরণঃ
মুক্তকছন্দে লেখা এবং গদ্যকবিতাকে নিয়েই লেখা আমার ক'টি কবিতা পড়ুন এবার।পড়তে গিয়ে গদ্যের মতো বা গল্প-প্রবন্ধের মতো লাগে কিনা দেখুন। গদ্যকবিতাও যে আবৃত্তিযোগ্য, ছন্দ থাকলেই তা বোঝা যায়।


নিপুণ শব্দস্রোত
কবিতা-সুন্দরীর ছন্দিত ভুবনে আমি খুঁজি তার
নন্দিত শরীর। বিপুল শব্দস্রোতে ভাসিয়ে হৃদয়কন্দর...
সাঁতারকেটে চলি দ্রুতগামী মাছের মতোন!
কবিতাপাগল অন্ধ আমি ছন্দে ছন্দে
খুঁজি তার অনিন্দ্য-সুন্দর অভিসারী যৌবন?

বন্ধুরা বলে, গদ্যের যুগে ছন্দের কী দাম
রূপক কবিতা্ও আজ কবিতা নয়;
স্রেফ পত্রিকার কলামের মতোই কলাম
সাজিয়ে দাও গেঁথে দুর্বোধ্য কিছু শব্দসম্ভার!

অনবদ্য যৌবনা-কবিতার অনিটোল রূপ
মাড়িয়ে তাই আমি তুলে আনি ছন্দ-সুর
ছন্দিত কবিতা কি তবে কবিতা নয়, অথচ কী সুন্দর;
অসুন্দর মানেই তো জানি ছন্দপতন খুব
নারীসুষমাও কবিতার অশরীরী কায়ার মতোন–

বন্ধুরা বলে, সবার জন্য কবিতা নয় তাই
মুড়িয়ে দাও কবিতায় এক দুর্লঙ্ঘ আবরণ।
হায় কবিতা, তুমি কি তবে অবগুণ্ঠিত নারী
বুঝিনা আমি, নিপুণ শব্দস্রোতেই শুধু সাঁতরাই!!


দুর্বোধ্য মোনালিসা-হাসি
শাহ আলম বাদশা

বড্ড ভালোবাসি তোমায়, ভালোবাসি সুন্দরী
আমায় পাগল করে তোমার নিটোল দেহবল্লরী
মৃদুমন্দ তোমার ছন্দ নাচায়, হাসায়-কাঁদায়
তোমায় ছুঁলেই শিহরিত হই, জাগাও কাঁপন
প্রেমাসক্ত হৃদয়কন্দরে শুধুই আমার।

তোমার সর্পিল গতি কী লোভনীয় অতি
হৃদয় অলিন্দে রেখেছি একান্তে তোমায়
তোমার উপমা তুমিই, কী সুশ্রী দেহ-বল্লভ
তোমার দেহের গন্ধে গন্ধে আমি যে মাতাল
শুধুই করতে পারিনে দুর্বোধ্য মোনালিসা-হাসি
আর তীর্যক চাহনীর কোনো মর্মোদ্ধার!

তুমি কঠিন, খুলে দাওনা তোমার দেহের ভূভাগ
করি সুধাপান, খুঁজি অবারিত সুখ, সহজপাঠ
তোমার ছন্দে আরো ছন্দিত হই, দোলায় দুলি
আরো নমনীয় হও ওগো কবিতাসুন্দরী
নত হই আমিও আরো পাদপদ্মে তোমার।

কবিতা-অকবিতাঃ ছন্দহীন পদ্য-কবিতা-ছড়া ও গান!
ছন্দ, মাত্রা, তাল- লয়,উপমা-উৎপ্রেক্ষা ইত্যাদি না থাকলে কিসের কবিতা? মুক্তছন্দের নামে অন্ত্যমিলবর্জিত কবিতাও যে ছন্দহীন কবিতা নয়–তা-ও বোঝেনা আজকালকার অনেক তথাকথিত গদ্যকবি।আসলে আবৃত্তির অযোগ্য কবিতা কখনোই ভালোকবিতা হতে পারেনা। আবার ভালোকবি মানেই ভালো গীতিকার- এটাও সত্য। এখানে আরেকটি কথা বলে রাখি, যারা যতবেশি ছন্দে পণ্ডিত, তারা ততবেশি ভালো ছড়াকার। আর পারদর্শী ছড়াকাররাই মূলতঃ মানোত্তীর্ণ ছড়া-কবিতা ও গানলেখায় পটু হয়ে থাকে। প্রকৃত মানোত্তীর্ণ কবিতার আবৃত্তিও সাবলীল ও হৃদয়গ্রাহী হতে বাধ্য; আবার ছন্দহীন অকবিতার আবৃত্তি সুন্দর হতেই পারেনা। জোর করে তা আবৃত্তির চেষ্টা যতই করা হোকনা কেনো?

''ছন্দবিহীন কবিতা অনেক আগেও ছিল''-একজন পাঠকের এমন মন্তব্যশুনে আমারতো আক্কেলগুড়ুম! আসলে ছন্দ কী, আগে আমাদের তা বুঝতে হবে, কবিতা-পদ্য লিখতেই চাই? তার কথায় মনে হলো–ছন্দসম্পর্কে তার সঠিক ধারণাই নেই। ছন্দছাড়া কবিতা-ছড়া-গান হয়না, হতেই পারেনা; এটা অনেকেই বুঝতে চাননা। অনেকেই দেখেছি, অন্ত্যমিলকেই ছন্দ বলেন। কিন্তু কবি মধুসুদন দত্ত বলেছেন–শব্দে শব্দে বিয়ে (অন্ত্যমিল) হলেই কবিতা হয়না। শুধু অন্ত্যমিল থাকলে তাকে বড়জোর পদ্য বলা যেতে পারে।

কবিতার ভাষা বা শব্দ ও বাক্য হতে হয় সহজ-সাবলীল। তবে কবিতায় কঠিন শব্দ থাকতেই পারে। কিন্তু তা হতে হয় ছান্দিক বা ঝংকৃত বা রিদমিক অথবা শ্রুতিমধুর শব্দ, যা কবিতার ছন্দসৃষ্টিতে সহায়ক হয়। যেমন- আধুনিক শব্দটা খুব শ্রুতিমধুর না হলেও এটি অন্ত্যমিলযুক্ত বা অন্ত্যমিবিহীন উভয় কবিতায় ব্যবহৃত হতে পারে। কিন্তু আমার মতে, আধুনিকতা শব্দটা আদৌ কবিতার জন্য উপযুক্ত ন্‌য়। এ জাতীয় চটুলতাবিহীন এবং উচচারণকটু কাঠখোট্টা শব্দকে কবিতা-ছড়া বা গানে অবশ্যই পরিহার করা দরকার। এজাতীয় শব্দ গদ্যের জন্য উপযুক্তমাত্র। নজরুল বা রবীঠাকুরসহ নামীদামী কবিদের কোনো ছন্দহীন কবিতা তো ছিলোনা। তবে গদ্যকবিতা বা মুক্তকছন্দের কবিতা তাদের আছে। তা আবার অতীব ছন্দোবদ্ধতো বটেই, যা মাদের মতো বিরক্তিকর গদ্যকবিতা নয়।

আসলে ছন্দ জিনিসটা অন্তরে উপলদ্ধির এবং বিশেষত কানের শ্রুতির বিষয়, কবিতা-পদ্য পরতে গেলেই যে কানের আদৌ দেখার জিনিস নয়। ছন্দের সাথে ভাষার ব্যাকরণেরও কোনো যোগ নেই। উপযুক্ত, সুন্দর ও সাবলীল ধ্বনি, শব্দ এবং বাক্যের সাথে মাত্রা, তাল, লয়, উৎপ্রেক্ষা, রূপকতা ইত্যাদি মিলিয়ে গঠিত হয় ছন্দ। আর পদ্য-কবিতা-ছড়া-গান আবৃত্তি করলেই কানে অনুরণিত হতে থাকে একপ্রকার রিদম বা সুর যা হৃদয়কে ভাল্লাগায় নাচাতে থাকে–এটাই মূলতঃ ছন্দ। আবার ছন্দের আছে সুনির্দিষ্ট ও সুগঠিত একটা ব্যাকরণ বা নিয়ম।
একটা উদাহরণ দিলে ছন্দের ধারণা পরিষ্কার হবে-পিচঢালা মসৃণ রাস্তায় গাড়িচালাতে খুব আরামবোধ হয়, কোনো ঝাঁকুনি না থাকায় ঘুমও পায় যাত্রীর। এই যে আরামবোধ বা সুখানুভূতি-এটাই ছন্দ। এজন্যই গানের সুরের ছন্দে অনেকেরই ঘুম পায়। আবার এবড়োথেবড়ো, ভাঙ্গাচোরা বন্ধুরপথে গাড়িচালিয়ে কি আপনি সেই সুখানুভূতি বা ছন্দ পাবেন? আপনি চরমভাবে বিরক্তিবোধ করবেন। এমনকি গাড়িতে ঘুমালেও গাড়ির চলার ছন্দহীনতায় সে ঘুম ভেঙ্গে গেলে আপনি রেগে যাবেন অবশ্যই। ছন্দহীন কবিতাপাঠেও পাঠকের তেমন বিরক্তি আসবে এবং আসেই।
আমরা ছন্দ না জেনেও অনেকেই কবিতা লিখতে গিয়ে অকবিতা লিখি, যা পাঠককে বিভ্রান্ত করে; কবিতাবিমুখ করে তোলে। এতে কবিতার দোষ নেই। দোষ হচ্ছে তথাকথিত কবির, যারা পত্রিকার কলামের আদলে স্রেফ কিছু বাক্যসাজিয়ে কবিতা লিখতে চায়। ফলে তা আর কবিতা হয়না যদিও দেখতে কবিতার মতো। অথবা বেশকিছু দুর্বোধ্য শব্দসম্ভারে ভারী করে তোলে কবিতার শরীর, যা পড়তে ও বুঝতে চাইলে ডাকতে ইচ্ছে করে অগত্যা স্বয়ং সেই কবিকেই।
আবার পদ্য-ছড়া আর গানের ক্ষেত্রে কেউ কিন্তু ছন্দহীনতার প্রসঙ্গ কখনো কি আনেন? নাহ, সাক্ষর-নিরক্ষর সবাই যেনো জানেই যে, পদ্য-ছড়া ও গান বা সঙ্গীত ছন্দছাড়া হয়ই না। কিন্তু কবিতা শব্দটি এবং এর ইতিহাসের মধ্যেই ছন্দের বাধ্যবাধকতা এবং অপরিহার্যতা থাকলেও আমাদের পূর্বসূরি কিছু কবিই গদ্যছন্দ-গদ্যকবিতা বা মুক্তছন্দের আবিষ্কার করায় ঘটেছে এই বিভ্রাট। যদিও তারাও কখনোই বলেননি যে, গদ্যকবিতা হবে ছন্দহীন; তবুও আমাদের এই বিভ্রান্তির কারণে আজ কবিতার তেমন কোনো কদর নেই।
অথচ একসময় আমরা দেখেছি হাটে-ঘাটে-বাজারে পয়ারছন্দে রচিত গেঁয়ো কবিদের কী হৃদয়গ্রাহী প্রেম বা লোমহর্ষক ঘটনার বর্ণনাসম্বলিত পদ্য? তারা তা ছাপিয়ে আবৃত্তি করেকরে বিক্রি করতো এবং তাদের ছন্দোবদ্ধ সেই পদ্যের হৃদয়গ্রাহী আবৃত্তিশুনে আমরাও কিনে নিয়ে পড়তাম। এটা খুব বেশিদিনের কথা নয়, অনেকেরই স্মরণ থাকার কথা। আর আজ সেই ছন্দের এবং কবিতার কী দুর্দিন! জানিনে কতদিন আর কবিতার ওপর চলবে এমন অন্যায়-অবিচার!!
আবার বলি- ছন্দ স্রেফ অনুভবের বিষয় যা দেখা যায়না। তবে নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী "ছন্দ জানা ভালো কিন্তু এর দাসত্ব করা ভালো নয়" ছন্দের দাসত্ব না করার উপদেশের বিষয়টি নতুন কবিদের জন্য বিপজ্জনক বলেই আমি মনে করি। এটা ছান্দসিক কবিদের জন্যই অনুসরনীয় হওয়া উচিৎ,যারা ছন্দের পণ্ডিত এবং ছন্দের ভাঙ্গাগড়ায় সিদ্ধহস্ত। তিনি নতুন কবি বা সবার জন্যই গনহারে একথা বলেননি।
আবার গদ্যকবিদের অনেকেরই বানানের দশা দেখে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে যাই। যারা শুদ্ধভাষা জানেনা, বাক্যগঠনে বেশ দুর্বল। এমনকি শুদ্ধবানানসম্পর্কেও উদাসীন, তারা কোন যুক্তিতে কবিতা লিখতে আসে-এটা আমার বোধগম্য হয়না। যারা বাংলাব্যাকরণে এবং সঠিক বাক্যগঠন বা বানানেও দুর্বল; ছন্দ না জেনে এদের অনেকেই আবার কবিতা লেখে।
ছন্দ, মাত্রা, তাল-লয়,উপমা-উৎপ্রেক্ষা ইত্যাদি মিলে তৈরি হয় কবিতা-পদ্য-ছড়া-গান এর মনকাড়া ছন্দ। আর এটি হচ্ছে রীতিমতো একটি শিল্প । কবিতার ব্যাকরণ মেনে চললে যেমন ছন্দের সৃষ্টি হয় তেমন ভাষারও আছে একটি ব্যাকরণ, যা না মানলে কবিতা ও ভাষায় থাকেনা কোনো নিয়ম-নীতি ও শৃঙ্খলা এবং সৌন্দর্যবোধ-শ্রুতিমাধুর্যও।
তাই ছন্দছাড়া কবিতা হয়না-এটা ১০০% সঠিক। এটা হয়তো গদ্যকবিদের অনেকেই জানেনা যে, বাংলাদেশে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরই মুক্তছন্দের প্রবক্তা হলেও তিনি কিন্তু গদ্যকবিতার নামে ছন্দহীন কবিতা নিজেই লেখেননি। এমনটি কেউ প্রমাণ করতে পারবেনা। তাই কবিতার মতো একটি কঠিন শিল্পের ছন্দ বা ব্যাকরণসম্পর্কে যারা উদাসীন থাকতে বলে–তারা ভালোকবি বা ভালোকবিতার ক্ষতি করছেন নিজেদের অজান্তেই। কারণ তাদের কথা মেনে হয়তো আজকাল অনেকেই কবিতার নামে স্রেফ পত্রিকার কলাম সাজাচ্ছেন মাত্র—। ধারছেন না কোনো ছন্দেরই ধার; ফলে কবিতার পাঠক কবিতা দেখলেই বা কবিতার নাম শুনলেই ভেগে যাচ্ছে কবিতায় কোনো ছন্দ ও আনন্দ না পেয়ে-এটাও দেখার বিষয়। [চলবে]
 
   Like
   Comment
   Share
 
 
   
   
 
View Post
   
Edit Email Settings
 
   
   
Reply to this email to comment on this post.
 
   
   
 
This message was sent to deleted@email-fake.pp.ua. If you don't want to receive these emails from Facebook in the future, please unsubscribe.
Facebook, Inc., Attention: Department 415, PO Box 10005, Palo Alto, CA 94303